ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চেন অব কমান্ড মানছেন না সাত ওয়ার্ড মাস্টার

0 ১০,২৫০

শামীম হোসেন স্টাফ রিপোর্টার //ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চেন অব কমান্ড মানছেন না সাত ওয়ার্ড মাস্টার। দূর্নীতি দায়ে ওয়ার্ড মাস্টারদের এক স্হান থেকে অন্য স্হানে স্হানাতর করেও দূর্নীতি রোধ করতে পাচ্ছে না হাসপাতালের কতৃপক্ষ। যাদের দিয়ে দূর্নীতি প্রতিরোধ করবে তারাই সেই কাজে জড়িত। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাসপাতাল থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ওয়ার্ড মাস্টাররা। এর পাশা পাশি হাসপাতালের কর্মকর্তা ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নেতারাও এই দূর্নীতিতে পিছিয়ে নেই। তাদের দূর্নীতি কারনে হাসপাতাল গত এক মাস আগে ১৯ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ৮ জন ওয়ার্ড মাস্টারকে চিঠির মাধ্যমে জায়গা পরিবর্তনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।এদের মধ্যে ৭ জন ইস্যুকৃত চিঠির
নির্দেশনা মেনে তারা স্হান পরিবর্তন করেছে। এদিকে বর্হি বিভাগে দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ড মাস্টার এসএম বাশার শিকদারের বিরুদ্ধ কোন অভিযোগ না থাকায় তাকে একই স্হানে বহাল রেখেছেন হাসপাতালের পরিচালক। কিন্তু ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সভাপতি রমিজসহ ৭ ওয়ার্ডরের সেন্ডিকেটের বেড়াজালে পরে পরিচালক তাকে কেবিন ব্লকে স্হানান্তর করেন। অভিযোগে জানা গেছে, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফুল আলমকে ওই সিন্ডিকেটরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে বর্হি বিভাগ থেকে সরানো হয়। অপরদিকে দূর্নীতি ও ডিউটি অবহেলার কারনে ওয়ার্ড মাষ্টার কাজি আবু সাঈদ, রিয়াজ উদ্দিন, মো, শরীফ, আবুল হোসেন, আব্দুল গফুর, বাবুল মিয়া ও জিল্লুর রহমান। এই দূর্নীতিগ্রস্হরা হাসপাতাল থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চলতি দ্বায়িক্তে ওয়ার্ড মাষ্টার কাজি আবু সাঈদ ওয়ার্ড মাষ্টারের পদ নেয়ার জন্য কর্মচারীদের সাবেক সভাপতি মো.সাঈদকে ২ লাখ টাকা দিয়ে এই পদটা নেয়। কাজি সাঈদ পদ পাওয়ার পর থেকে শুরু করে দেয় দূর্নীতির কর্মকান্ড। এই কাজি সাঈদ এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অপরদিকে নেতা রমিজসহ সিন্ডিকেটের ওয়ার্ড মাষ্টারা দূর্নীতিতে পিছিয়ে নেই।
শনিবার (১১ মার্চ) হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডিউটি করতে দেখা যায় ওয়ার্ড মাষ্টার কাজি আবু সাঈদকে কিন্তু তার কমেন্ড মানছে না কর্মচারীরা। বর্হি বিভাগের কর্মচারীদের অভিযোগ তিনি ওয়ার্ড মাষ্টারের যোগ্য নয়। সে টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ড মাষ্টারের পদটি কিনে নিয়েছে। তার কোনো যোগ্যতাই নেই এই পদে থাকা। সে একজন ওয়ার্ড বয় কি করে ওয়ার্ড মাষ্টার হয়। তার সেই যোগ্যতা নেই। তারা আরও বলেন, কাজি সাঈদ যখন ওয়ার্ড বয় ছিল তখন তিনি অনেক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি আরও বেশী করে দূর্নীতি করছেন। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ঢামেক হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানিয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ৮ ওয়ার্ড মাস্টাদের চিঠির মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন এর নির্দেশনা জারি করা হয়। ওয়ার্ড মাস্টাররা রাজি হয়ে দায়িত্বরত থাকার স্হান পরিবর্তন করেন। কর্মচারীদের দাবী বর্হি বিভাগে দ্বায়িত্ব নিয়ে কাজ করার মত একজন ওয়ার্ড মাষ্টার ছিলেন তিনি হলেন আবুল বাসার। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বর্হি বিভাগটি পরিস্কার পরিছন্ন করে রাখতেন। বর্তমান তার উল্টোটা হচ্ছে। কর্মচারাীদের নিয়ন্ত্রন করার অভিজ্ঞাত কাজি আবু সাঈদের নেই।
সূত্র আরও জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনেই হচ্ছে বহির্বিভাগ। ভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক দায়িত্ব পালনের মৌখিক নির্দেশনা দেন।সূত্রগুলো আরও জানিয়েছেন গত কয়েক বছর ধরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সহসভাপতি হয়ে বিভিন্ন ধরনে অপকর্ম চালিয়ে আসছেন কাজি আবু সাঈদ।
ঢামেক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সভাপতি রমিজসহ ওই সিন্ডিকেটের ওয়ার্ড মাষ্টাদের কাছে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। ওই সিন্ডিকেটের কারনে হাসপাতালের সেবার মান কমিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. আব্দুল আজিজের কাছে জানতে চাইলে। তিনি জানান, হাসপাতাল সবাইকেই চেন অব কমান্ড মানতে হবে। বাসার শিকদারের পক্ষে কোনো অনুরোধ করেনিন। এদিকে ওয়ার্ড মাস্টার এসএম বাশার শিকদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তার স্থলে যিনি আসবেন সেই ওয়ার্ড মাস্টার আবু সাঈদ অসুস্থ থাকায় তিনি দ্বায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি পরিচালক স্যারকে জানানো হয়েছে। তবে পরিচালকের নির্দেশনা আমাকে মানতেই হবে। এদিকে হাসপাতাল থেকে স্থান পরিবর্তনের জন্য দেওয়া চিঠিতে দেখা গেছে পুরাতন ভবনের কেবিন ব্লকের দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ড মাস্টার আবু সাঈদকে বহির্বিভাগে আবুল বাশারের স্থানে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে জারি করা চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক সবাইকে স্থান পরিবর্তন করে ডিউটি করতে হবে। তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তাদের জন্য হাসপাতালের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এই জন্য তাদের স্হান পরিবর্তন করেছি তার পরেও যদি ঠিক না হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিবো।

- Advertisement -

Facebook Comments

Leave A Reply

Your email address will not be published.